জাতক শব্দটি 'জাত' শব্দ হতে উদ্ভূত হয়েছে। 'জাত' শব্দের অর্থ হলো উৎপন্ন, উদ্ভূত, জন্ম ইত্যাদি।
সুতরাং জাতক শব্দের অর্থ যিনি উৎপন্ন বা জন্ম লাভ করেছেন। বুদ্ধ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ঘটনা উপলক্ষে শিষ্যদের তাঁর অতীত জন্মের কাহিনি বর্ণনা করতেন। গৌতম বুদ্ধের পূর্বজন্মের ঐ কাহিনিগুলোকে জাতক বলা হয়। এক জন্মের কর্মফলে কেউ বুদ্ধ হতে পারেন না। বুদ্ধ হওয়ার জন্য জন্ম-জন্মান্তরে পারমী পূর্ণ করে পরিশুদ্ধিতা অর্জন করতে হয়। জাতক পাঠে জানা যায়, জন্ম-জন্মান্তরে গৌতম বুদ্ধ নানা কুলে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মানবকুলে রাজা, মন্ত্রি, ব্রাহ্মণ, বণিক, এবং দেবকুলসহ বিভিন্ন পশু-পাখি হয়ে জন্ম নিয়েছিলেন। প্রতিটি জন্মে তিনি 'বোধিসত্ত্ব' নামে অভিহিত হন। বোধিসত্ত্ব প্রতিটি জন্মে কুশলকর্ম সম্পাদন করতেন। এক কথায় বলা যায়, গৌতম বুদ্ধের বোধিসত্ত্বরূপে অতীত জন্মবৃত্তান্ত ও ঘটনাবলিসমূহ 'জাতক কাহিনী' নামে খ্যাত।
মূলত জাতকের সংখ্যা ৫৫০টি। গৌতম বুদ্ধ ৫৫০তম জন্মে বোধিজ্ঞান লাভ করে 'বুদ্ধ' নামে অভিহিত হন। শ্রী ঈশানচন্দ্র ঘোষ সম্পাদিত জাতক গ্রন্থে মোট ৪৪৭টি জাতক কাহিনরি উল্লেখ পাওয়া যায়। কথিত আছে, ৩টি জাতক কাহিনি কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে।
অনুশীলনমূলক কাজ |